বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ সরকারি হাসপাতালের চিকিতসকের বিরুদ্ধে
দি নিউজ লায়ন ; স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলা কে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পরে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো খরগ্রাম এর অশোকনগর এলাকায়।ঘটনার পরই অভিযুক্ত খরগ্রাম হাসপাতালের চিকিৎসক নিত্যানন্দ গাইন পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, এমনকি ওই মহিলাকে অভিযুক্ত চিকিৎসক তার কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আটকে রেখেছিল বলেও তিনি এ দিন জানান।
পাশাপাশি চিকিৎসক নিত্যানন্দ গাইন এর সঙ্গে তার ভাগ্নে আশুতোষ মজুমদার নামে আরোও একজন চিকিৎসক ভদ্রমহিলার ওপর মানসিক অকথ্য নির্যাতন চালাত বলেও অভিযোগ করেন ওই মহিলা।ঘটনার চাউর হতেই জেলার স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। অভিযোগকারিণী মহিলার এদিন মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় বলেই সূত্র মারফত জানা যায়।
এলাকা সূত্রে জানা যায়,ওই স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলার সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে অভিযুক্ত চিকিৎসক নিত্যানন্দ গাইন এর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বছর আড়াই আগে।এরপরেই ক্রমশ তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে সেই সুযোগে চিকিৎসক ওই মহিলাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তার সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে এনে তোলেন মাস কয়েক আগে।আর সেখানেই ওই গৃহবধূর সঙ্গে লাগাতার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের ঘটনা ঘটে।
এরপর এই মহিলা চিকিৎসককে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। আর তখনই বেঁকে বসেন নিত্যানন্দ গাইন।তিনি ওই মহিলাকে বিয়ে করতে পুরোপুরি অস্বীকার করেন।এরপর এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে মহিলার ওপর নানানভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে ওই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। কোনোভাবেই সুযোগ পেয়ে ওই নির্যাতিতা মহিলা এই যাবতীয় ঘটনা তার পরিবারের সদস্যদের ফোন মারফত জানাতে সক্ষম হয়।
এর পরেই ওই মহিলার বাবা ও তার ভাই শয়তান ওর গ্রামে সরকারি চিকিৎসকের কোয়ার্টারে এসে হাজির হয়। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে। চিকিৎসক ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে ওই গৃহবধূকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তোলেন নিগৃহীতা মহিলা। তিনি এদিন বলেন," আমি সমস্ত ঘটনা আমার পরিবারের লোক কে জানিয়ে দেওয়ার ফলে ডাক্তার বাবু আমার উপর প্রচন্ড রেগে যায় এবং দুজন ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে আমি তাদের সনাক্ত করতে করেছি। তারা হলো স্থানীয় পলাশ ঘোষ ও রাজেশ কবিরাজ।
সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যেই পুলিশকর্তাদের সবকিছু জানিয়েছি। তিনি এদিন আরো বলেন," আমি চাই ওই চিকিৎসক যিনি আমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে আমার সঙ্গে দিনের পর দিন এইভাবে প্রবঞ্চনা আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে সহবাস করেছেন তার কঠোর থেকে কঠোরতম সাজা হোক এবং তার ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করা হোক"।যদিও এই ঘটনা চাউর হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসককে কোনভাবেই এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র মারফত জানা যায়, তিনি ছুটি নিয়ে অন্য কোথাও গিয়েছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক এর মোবাইল ফোনে তাকে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেখানেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুরো বিষয় চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তারা রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে স্থানীয়রা এই ঘটনার সত্যতা শিকার করে নিয়ে বলেন,দীর্ঘদিন ধরে ওই মহিলাকে কোয়ার্টারের মধ্যে চিকিৎসক আটকে রেখেছিল এবং তার ওপর নানা রকম নির্যাতন চালাতেন তিনি।

Post a Comment